বিষয়ঃ বর্গা ও ভাগচাষ সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধান||| চতুর্থ বা শেষ পর্বঃ ~
ভূমি সংস্কার আইনের বিভিন্ন ধারাতে বর্গা চাষ রদের ব্যাপারে উল্লেখ আছেঃ
১৭(১) ধারা:
ক) বর্গাদার কোন যুক্তিও সঙ্গত কারণ ছাড়া জমি চাষ না করে যদি ফেলে রাখেন বা জমির শ্রেণী পরিবর্তন করেন। তাহলে বর্গাদার হিসাবে তার নাম বাতিল হবে।
খ) বর্গাদার উৎপন্ন ফসলের ভাগ মালিককে যদি না দেন। তাহলেও বর্গাদার হিসাবে তার নাম বাতিল হবে।
গ) বর্গাদার জমি নিজে চাষ না করে যদি অন্য কাউকে দিয়ে চাষ করান। ভাড়া করা মজুর বা কাজের লোক কে ফসল বা অর্থের বিনিময়ে চাষ করালে সেটি নিজ চাষ বলে গণ্য হবে না।
ঘ) মালিক নিজেই ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে জমি নিজের চাষে আনতে চান। তবে জমি মালিকের নিজ চাষে আনার ফলে যদি বর্গাদারের মোট চাষের জমির পরিমাণ ১ হেক্টরের* নীচে নেমে যায় বা মালিকের মোট চাষের জমির পরিমাণ ৩ হেক্টরের বেশি হয়ে যায় তবে আবেদন গ্রাহ্য হবে না।
১৭(২) ধারা:
মালিক বর্গাদারের কাছ থেকে জমি ফিরিয়ে আনার দুবছরের মধ্যে যদি নিজে চাষ করেন বা অন্যকে দিয়ে চাষ করান তাহলে ওই জমি খাস বলে ঘোষিত হবে।
১৭(৪) ধারা:
মনে রাখবেন একজন বর্গাদারের জমি, নিজ জমিসহ ৪(চার) হেক্টরের বেশি হবে না।
১৭(৫) ধারা:
যদি দেখা যায়, একজন বর্গাদার চার হেক্টরের বেশি জমি চাষ করছেন, তাহলে অতিরিক্ত জমির ফসলের বর্গাদারের অংশ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
১৭(৬) ধারা:
যদি বর্গাদার মালিকের চার হেক্টরের বেশি জমি চাষ করেন, তাহলে মালিক অতিরিক্ত জমিতে পাট্টা পাওয়ার যোগ্য কোন ব্যাক্তিকে ভূমি সংস্কার আইনের ৪৯ ধারায় বর্গাদার নির্বাচিত করতে পারেন।
১৮(১) ধারা:
এই ধারা অনুসারে মালিক ভাগচাষ আধিকারিকের নিকট বর্গা চাষ রদ, ফসলের ভাগ, ফসল খামারে তোলা ইত্যাদির জন্য আবেদন করতে পারেন। ভাগচাষ আধিকারিক উভয় পক্ষের শুনানি ও সরেজমিনে তদন্ত করে, বিষয়টিকে নিষ্পত্তি করবেন। মালিক ও বর্গাদারের কোন পক্ষ ভাগচাষ আধিকারিকের রায় মেনে নিতে না পারলে তিনি মহকুমা শাসকের নিকট অর্থাৎ SDL&LRO অফিসে আবেদন করতে পারে।
১৯ ধারা:
বর্গা সংক্রান্ত সমস্যা আধিকারিক কর্তৃক নিষ্পত্তি হওয়ার পর মালিক ও বর্গাদারের কোন পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে, তিনি এই ধারা মূলে এক মাসের মধ্যে মোকদ্দমা করতে পারেন। যদি তিনি মোকদ্দমা করতে এক মাসেরও বেশি দেরী করেন, তাহলে আপিল কর্তৃপক্ষ তামাদি আইনের ৫ ধারার মাধ্যমে বিলম্বের বিষয়টিকে মকুব করতে পারেন।
১৯(ক) ধারা:
কোন ব্যাক্তি যদি ১৭, ১৮, ১৯ ধারায় ভাগচাষ আধিকারিকের দেওয়া আদেশ প্রতিপালন করা থেকে বিরত থাকেন অথবা ১৬(৩) ধারা অনুসারে ফসল ভাগ পেয়েও ভাগের প্রাপ্তি স্বীকার করে রসিদ না দেন তবে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। এতে ব্যাক্তি ৬ মাসের জেল অথবা ৫০০ টাকা জরিমানা হতে পারে।
তবে এটি আদালতের বিচার্য বিষয়, রাজস্ব আধিকারিক এই আদেশ দেবেন না। তবে দপ্তরের আধিকারিকরা এই ধারায় কেশ রুজু করতে পারেন।
১৯(খ) ধারা:
কোন বর্গাদার যদি বলপূর্বক তার মালিকের জমি চাষ থেকে উচ্ছেদ হন এবং বর্গাদার যদি ভাগচাষ আধিকারিকের নিকট কোন দরখাস্ত করেন তাহলে ভাগচাষ আধিকারিক মালিককে পুনরায় বর্গা চাষে ফিরিয়ে আনার আদেশ দেবেন।
তবে এর মধ্যেই যদি ওই জমিতে মালিক অথবা তার কোন লোক ইতিমধ্যেই চাষ করে ফেলেন, তাহলে জমিতে উৎপন্ন ফসলের শতকরা ৬০ ভাগ পাবেন পূর্বে উচ্ছেদ হওয়া বর্গাদার আর বাকি ৪০ ভাগ সরকারি কোষাগারে জমা পড়বে।
যদি জমিটি চাষহীন অবস্থায় পড়ে থাকে তৎক্ষণাৎ জমিটি পূর্বতন বর্গাকার যেন ফেরত পায় সেই আদেশ দিতে হবে। আর যদি চাষ শুরু হয়ে যায় তাহলে ফসল ফলার পর বর্গা জমি ফেরত পাওয়ার আদেশ কার্যকর হবে।
আবার জমিটি যদি মালিক কর্তৃক নিযুক্ত অন্য কোন চাষি চাষ করেন তাহলে উৎপন্ন ফসলের শতকরা ৭৫ ভাগ পাবেন পূর্বতন বর্গাদার, বাকী ২৫ শতাংশ পাবেন চাষি।
(মনে রাখবেন, উচ্ছেদ হওয়ার দুই বছরের মধ্যে পুনরায় বর্গা চাষ ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।
বর্গাদার উচ্ছেদ যদি ১৯৭০ সালের ৪ঠা আগষ্টের আগে হয়ে থাকে তাহলে এই আইন সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।)
২০(খ) ধারা:
বর্গাদার স্বেচ্ছায় যদি বর্গাচাষ ত্যাগ করেন। সেক্ষেত্রে জমির মালিক ভাগচাষ আধিকারিকের নিকট নতুন বর্গাদার নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। আর তিনি যদি আবেদন না করেন, তাহলে আধিকারিক যদি অন্যভাবে সংবাদ পান। তাহলে তিনি পূর্বতন বর্গাদার আর মালিকের শুনানী করে নিশ্চিত হবেন বর্গাদার স্বেচ্ছায় বর্গাচাষ বর্জন করেছেন কি না। যদি আধিকারিক সন্তষ্ট হন তিনি স্বেচ্ছায় বর্গাচাষ ছেড়েছেন তাহলে আধিকারিক নতুন করে কাউকে ওই জমিতে বর্গাদার নিয়োগ করাবেন। এ ব্যাপারে পাট্টা পাওয়ার যোগ্য এমন ব্যাক্তিদের মধ্যে কাউকে বর্গাদার হিসাবে নিয়োগ করাবেন।
বর্গা চাষ সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ হলো। এরপরেও কোন ব্যাক্তির কোন প্রশ্ন থাকলে, আমাদের কমেণ্ট বক্সে লিখতে পারবেন। তাছাড়া আমাদের আলোচনার এই প্রসঙ্গ গুলিতে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।
আরও দেখুন:
বিষয়ঃ বর্গা ও ভাগচাষ সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধান|||প্রথম পর্বঃ~https://aamarbhumi.blogspot.in/2018/04/blog-post.html?m=
বিষয়ঃ বর্গা ও ভাগচাষ সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধান|| দ্বিতীয় পর্বঃ~
https://aamarbhumi.blogspot.in/2018/04/blog-post_11.html?m=1
বিষয়ঃ বর্গা ও ভাগচাষ সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধান|||তৃতীয় পর্বঃ~
https://aamarbhumi.blogspot.in/2018/04/blog-post_12.html?m=1
কিভাবে বাংলারভূমি ওয়েবসাইট মোবাইলেও খোলা যায়?




